নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি মহিলা মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আতিয়া আক্তার রিমা এবং ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে জিদনী নামে আরও এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
বুধবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহত আতিয়া আক্তার রিমা ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার আতাউর রহমানের মেয়ে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মর্গে রাখা হয়।
অন্যদিকে জিদনী (১৪) বুধবার সকাল ৬টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তার শরীরের ৮২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। জিদনী ভোলাইল এলাকার মোহনের মেয়ে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফতুল্লার কাশীপুর এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসার ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাদে থাকা অবস্থায় বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়। পরে মাদ্রাসার লোকজন তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।
দগ্ধ অপর তিন শিক্ষার্থী বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে লামিয়া (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর শরীরের ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। সে মুসলিমনগর এলাকার আব্দুল আলিমের মেয়ে। লামিয়া নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আছিয়া (১০) নামে আরেক শিক্ষার্থীর শরীরের ৭ শতাংশ এবং সুমাইয়া (১৩) নামে আরেক শিক্ষার্থীর শরীরের ১৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। আছিয়া ভোলাইল এলাকার আজগর আলীর মেয়ে এবং সুমাইয়া কাশীপুর দেওয়ান বাড়ি এলাকার রনির মেয়ে। তুলনামূলক কম দগ্ধ হওয়ায় তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লামিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহমান বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন হয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার আতিয়া আক্তার রিমা এবং বুধবার জিদনীর মৃত্যু হয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available