আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে আরও ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির নির্দলীয় সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। খবর এপি।
১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সিবিও জানায়, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
সিবিওর হিসাবে, যুদ্ধের প্রভাবে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি হতে পারে। এর পেছনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের ব্যয়ের বড় অংশই ব্যবহৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় পূরণে ব্যয় হয়েছে। তবে যুদ্ধে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাদের ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে সাবেক সেনাদের চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ সম্ভাব্য ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে তৈরি করা হয়। এর আগে সিনেটের শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিলেন। সিবিওর নতুন হিসাব তার কাছাকাছি।
তবে সিবিও জানিয়েছে, এই মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পেন্টাগন সরবরাহ করেনি। ফলে সরকারি তথ্যভান্ডার ও প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ব্যবহার করে হিসাব করা হয়েছে। এ কারণে ব্যয়ের হিসাবটিতে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক মজুতেও ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধটি এখন সপ্তম মাসে পড়েছে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির ওপরও এর প্রভাব পড়ছে বলে সিবিওর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available