• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১৬ই কার্তিক ১৪৩৩ রাত ০৩:৪৬:৪০ (01-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:

বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করল মুডিস

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ০৮:২১:৪৭

বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করল মুডিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বিনিময় হার ব্যবস্থায় নমনীয়তা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডিস রেটিংস।

সর্বশেষ ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রকাশিত মূল্যায়নে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ইস্যুয়ার ও সিনিয়র আনসিকিউরড ঋণমান ‘বি২’ এবং স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার ঋণমান ‘নট প্রাইম’ অপরিবর্তিত রেখেছে সংস্থাটি। তবে ‘বি২’ ঋণমানের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিগুলো এখন তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে করছে মুডিস।

মুডিস বলেছে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন, সরকারের শক্তিশালী ম্যান্ডেট এবং সংস্কার কার্যক্রম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ঝুঁকি কমিয়েছে। একই সঙ্গে রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং আরও নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা দেশের বৈদেশিক লেনদেনের সক্ষমতা শক্তিশালী করেছে।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশকে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দিয়ে চার মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। ২০২৪ সালের শেষে রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

মুডিসের মতে, রেকর্ড রেমিট্যান্স, বিনিময় হার ব্যবস্থায় নমনীয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের বিভিন্ন অসঙ্গতি দূর হওয়া রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের অব্যাহত যোগাযোগও বৈদেশিক অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারে সহায়ক হচ্ছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে মুডিস। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। ২০২৭ অর্থবছরে তা ৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৮ অর্থবছর থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন

একদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় পতন

তবে মূল্যস্ফীতি আপাতত প্রায় ৯ শতাংশে থাকতে পারে এবং পরে ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মুডিস।

বাংলাদেশের ঋণমান ‘বি২’ পর্যায়ে অপরিবর্তিত রাখার ক্ষেত্রে সীমিত রাজস্বভিত্তি, ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার দুর্বলতা এবং ব্যাংক খাতের ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়েছে মুডিস।

সংস্থাটির মতে, ব্যাংক খাতের সংস্কারের ফলে মোট খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩২ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক মূলধন পর্যাপ্ততা পুনরুদ্ধারে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশের সমপরিমাণ পুনঃমূলধনীকরণের প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের সহায়তা সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন

বিশ্ববাজারে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে স্বর্ণের দাম

তবে ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে মুডিস। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ব্যাংক খাতে আমানত প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। ফলে তারল্যের চেয়ে ব্যাংক খাতের প্রধান দুর্বলতা এখন মূলধন সক্ষমতা বলে মনে করছে সংস্থাটি।

সরকারের সীমিত রাজস্বভিত্তিকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে মুডিস। সরকারের রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। তবে মোট সরকারি ঋণ জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে।

প্রাথমিক ঘাটতি অব্যাহত থাকা এবং ব্যাংক খাতে সরকারি সহায়তার সম্ভাব্য ব্যয়ের কারণে মধ্যমেয়াদে সরকারি ঋণ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তবে সহজ শর্তের বৈদেশিক অর্থায়নে অব্যাহত প্রবেশাধিকার থাকলে ঋণ নেওয়ার ব্যয় ও পুনঃঅর্থায়নের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে মুডিস।

আরও পড়ুন

মুদ্রার মাধ্যমে ইতিহাসের খোঁজে

জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতাকেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে মুডিস। সাম্প্রতিক সময়ে একটি এলএনজি আমদানি টার্মিনালে বিঘ্নের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও সার উৎপাদনে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ রপ্তানি প্রতিযোগিতা এবং সহজ শর্তের বৈদেশিক অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে মুডিস।

তবে বাংলাদেশের রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ধরে রাখবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে মুডিস।

আরও পড়ুন

জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ

সংস্থাটি বলেছে, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত কাটিয়ে ওঠা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নীতির কার্যকারিতা উন্নত হলে বাংলাদেশের ঋণমান বাড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, ব্যাংক খাতের বড় ধরনের দায় সরকারের ওপর বর্তানো, প্রবৃদ্ধি বা রাজস্ব পরিস্থিতির অবনতি, বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ কমে যাওয়া কিংবা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ফিরে এলে বাংলাদেশের ঋণমানের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে মুডিস।

সূত্র: বাসস

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ










ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: গত ২ দিনে ডিএমপির ৩৬৯১ মামলা
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন: গত ২ দিনে ডিএমপির ৩৬৯১ মামলা
৩১ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৫৮:২৩