• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ১লা কার্তিক ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৬:৫৯:৫৬ (16-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

এক্সপ্লেইনার

ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

১৬ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:২২:১০

ইরানে ‘মাদার অব অল বোম্বস’ ফেলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় ইরানে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগারে থাকা সবচেয়ে বড় বোমাটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২ দেশের মধ্যে এখন অঘোষিত যুদ্ধবিরতি চলছে। এ সময় ‘মাদার অব অল বোম্বস’ নামে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোমা (এমওএবি) ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে আসায় মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা বাড়বে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কিত আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, মোয়াব বোমা ব্যবহার করলেও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য তা কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে।

ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ ইলাইজা ম্যাগনিয়ার আল জাজিরাকে বলেন, মোয়াব ব্যবহার করলেও ইরানের মাটির গভীরে তৈরি পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যে ধ্বংস হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এ ধরনের হামলা কেবল ‘রাজনৈতিক নাটকীয়তা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

এমওএবি কী?

জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (মোয়াব) হলো সাড়ে ৮ হাজার কেজি উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক সমৃদ্ধ একটি সুবিশাল বোমা। এর মোট ওজন ৯ হাজার ৮০০ কেজি—যা প্রায় চারটি সাধারণ প্রাইভেট কারের ওজনের সমান। এটি প্রায় ৩০ ফুটের বেশি দীর্ঘ, যা একটি ছোট ইয়টের আকারের সমান। এটি সাধারণত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান থেকে ফেলা হয়।

২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে প্রথম তৈরি এই বোমাটির এ পর্যন্ত ১২ বার বিস্ফোরণ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের ‘মাদার অব অল ব্যাটলস’ মন্তব্যের সূত্র ধরেই এর নামকরণ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত কেবল একবারই এমওএবি ব্যবহার করেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেট খোরসান প্রদেশের (আইএসকেপি) গুহা ও সুরঙ্গ নেটওয়ার্কে এই বোমা দিয়ে হামলা চালানো হয়। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৯৪ জন আইএসকেপি যোদ্ধা নিহত হলেও কোনও সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানি হয়নি। তবে স্থানীয় কিছু অসমর্থিত সূত্রের প্রতিবেদনে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত এবং বহু ঘরবাড়ি ধ্বংসের কথা বলা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বললেন ট্রাম্প

এটি কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে?

মাটির কয়েক ফুট ওপরে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য নকশা করা এই এমওএবি বোমাটি বিস্ফোরণের পর প্রাণঘাতী উত্তাপ ও অগ্নিতরঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে আশপাশের ভবন, গুহার মুখ এবং যেকোনও শক্তপোক্ত স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়।

ম্যাগনিয়ার জানান, ‘একটি বড় এলাকাজুড়ে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটানোই এর মূল উদ্দেশ্য।’ মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বোমাটি এতটাই শক্তিশালী যে পরীক্ষার সময় এর বিস্ফোরণ থেকে তৈরি হওয়া ‘মাশরুম ক্লাউড’ ২০ মাইল দূর থেকেও দেখা গেছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল নিদাল আবু জেদ আল জাজিরাকে বলেন, এই বোমার বিস্ফোরণের জন্য মাটিতে আঘাত করার প্রয়োজন হয় না। মাটির ওপরে ১ কিলোমিটার ব্যসার্ধের মধ্যে থাকা সব কিছু এর সুবিশাল বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যাবে।

আবু জেদের মতে, এই বোমাটি ব্যবহার করে মাটির ওপরে থাকা ইরানের স্থলবাহিনীর ঘাঁটিগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে চাইবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ মাটির নিচের স্থাপনাগুলোতেও পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার হুমকি দিয়েছেন।

তবে ম্যাগনিয়ার সতর্ক করে বলেন, বোমার ধ্বংসের পরিধি ও মাত্রা বহুলাংশে নির্ভর করে ওই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি এবং সেটি কতটা জনবহুল তার ওপর। তিনি আরও যোগ করেন, মাটির অতি গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এটি ততটা কার্যকর নাও হতে পারে।

ইরানের যেসব পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে, এর মধ্যে রয়েছে ফোরদো কমপ্লেক্স এবং পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে নির্মাণাধীন একটি স্থাপনা। সেগুলো মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত।

এমওএবি’র বিস্ফোরণের প্রভাব মাটির নিচে পৌঁছাতে পারলেও এটি কিন্তু ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমার মতো শক্ত কংক্রিট বা পাহাড়ের পাথর ভেদ করার জন্য তৈরি নয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বাঙ্কার বাস্টার হলো জিবিইউ-৫৭ ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর। প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কেজি ওজনের এই বোমা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে ২ হাজার ৭০০ কেজি বিস্ফোরক থাকে। এটি শক্ত ইস্পাত দিয়ে তৈরি এবং বিস্ফোরণের আগে মাটির ২০০ ফুট গভীরে গিয়ে আঘাত হানতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘মাদার অব অল বোম্বস’ পারমাণবিক অস্ত্র নয়: ট্রাম্প

ইরান কীভাবে জবাব দিতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমওএবি হামলা চালানো হলে ইরানের কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তাদের মতে, জবাবে তেহরান এমনকি সেসব প্রতিবেশী দেশেও আক্রমণ চালিয়ে বসতে পারে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার আইআরজিসির নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাগদি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি স্থল হামলা শুরু করে তবে ইরানের বাহিনী এত পরিমাণ মার্কিন সেনাকে বন্দি করবে যে যুক্তরাষ্ট্র সাদা পতাকা তুলতে বাধ্য হবে। যদিও ইরানের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের দেওয়া স্থল অভিযানের হুমকিকে নাকচ করে আসছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: চ্যানেল ২৪

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা
রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা
১৬ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:৫৯:৫২


অশ্লীল ছবি নিয়ে ব্ল্যাকমেইল, প্রেমিক গ্রেফতার
অশ্লীল ছবি নিয়ে ব্ল্যাকমেইল, প্রেমিক গ্রেফতার
১৬ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:৫৩:৩৯

ভারত থেকে ১৮টি নতুন রেলকোচ পৌঁছেছে
ভারত থেকে ১৮টি নতুন রেলকোচ পৌঁছেছে
১৬ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:৩৮:১৮






ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে গ্রেফতার ৫১০
ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে গ্রেফতার ৫১০
১৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৫:১৮:৩৩