আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে থাকা মার্কিন নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে ইরান।
আজ ৩১ আগস্ট সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থান থেকে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সময় হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে হামলায় কোনো মার্কিন নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা হতাহত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে ৩০ আগস্ট রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র-মাইন স্থাপনের জন্য রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন দুটি ব্যবস্থা হামলার লক্ষ্য ছিল। জুলাইয়ের পর ইরানের ভূখণ্ডে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত হামলা।
হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। আইআরজিসি জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় তাদের কয়েকজন যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানানো হয়নি।
এরপর ইরান জর্ডানে মার্কিন সেনাদের অবস্থান করা দুটি ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে। আইআরজিসির বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, কিং হুসেইন ও আল আজরাক ঘাঁটি ছিল ওই হামলার লক্ষ্য।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকে বিস্ফোরণের খবরও প্রচার করা হয়েছে। এসব বিস্ফোরণের সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক তৎপরতার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আরেকবার আমাদের দৃঢ়তা পরীক্ষা করুন, তাহলে আরও বড় মূল্য দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাল্টা জবাব আসছে।’ পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং তা হবে আরও কঠোর।
রোববারের মার্কিন হামলা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লারাক দ্বীপে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলো হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available