ডেস্ক রিপোর্ট: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। আর্থিক জালিয়াতি ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে ডব্লিউএইচওর তদন্ত চলার মধ্যেই তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
৯ সেপ্টেম্বর বুধবার ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন সায়মা ওয়াজেদ। পদত্যাগপত্রটি পর্যালোচনা করে এই খবর নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন ভ্রমণে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা ওয়াজেদ।
এদিকে ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ডব্লিউএইচও-র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্ট দিয়েছেন।
এতে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন ভ্রমণের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে অসত্য তথ্য উপস্থাপন এবং বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমি পাওয়ার অভিযোগ এনেছে।
এর প্রেক্ষিতে সায়মা ওয়াজেদ উল্টো World Health Organization (WHO) প্রধান বরাবর পাঠানো পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ‘‘যেহেতু আপনি আমার দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করছেন, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আপনার নেতৃত্বের প্রতি আমার সব ধরনের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। তাছাড়া, আমাকে বিনা বেতনে ছুটিতে রাখার আপনার সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক অবস্থাও বেশ খারাপ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।’’
একেই হয়তো বলে — চুরি তো চুরি, আবার সিনাজুরি।’
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ভোটে এই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ। পরের বছর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদের দায়িত্ব নেন তিনি।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই অনুসন্ধান শুরু করার এক পর্যায়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে প্রথম অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বুধবার পর্যন্ত তিনি অবৈতনিক ছুটিতেই ছিলেন।
চলতি বছরের ৩ জুলাই এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, চীন সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক প্রতারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে ডব্লিউএইচও।
এর আগে, জুলাইয়ে ডব্লিউএইচওকে দেওয়া এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, নিয়মিত ভ্রমণ খরচ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া করতে গিয়ে একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে। অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর ওই পদের জন্য মনোনয়ন ঘোষণা করা হবে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই–বাছাই শেষে আগামী ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকেরা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হন। রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডব্লিউএইচওর নীতি বাস্তবায়ন তাদের অন্যতম দায়িত্ব।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারত আছে। সদস্য দেশগুলো প্রতি পাঁচ বছর পর আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচন করে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available