আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানানোয় ফ্রান্স ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
১২ আগস্ট বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর উচিত বিশ্বকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে ‘ছবক দেওয়া’ বন্ধ করা। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানকে ‘নির্লজ্জ ও বিব্রতকর ভণ্ডামি’ বলে মন্তব্য করেন।
আরাগচি আরও অভিযোগ করেন, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন তাদের নৈতিক অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের আগে বুধবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরও ২৬টি দেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে ইরানকে জনগণের দাবির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার নিশ্চিত করতে অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে ইরানকে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বন্ধ এবং নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলোর এই অবস্থানের পরই আরাগচি পাল্টা সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যে মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা সমালোচনার পাশাপাশি গাজা ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থানের মধ্যে দ্বৈত মানদণ্ড রয়েছে—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে।
তবে ইরানে বিক্ষোভ দমন, আটক ও মৃত্যুদণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার কমানো এবং আটক ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available