আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছয়টি শর্ত দিয়েছে ইরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে হুমকি ও সামরিক অভিযান বন্ধ, দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের আশপাশের অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর শনিবার এসব শর্তের কথা জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এসব দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা এগিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, নতুন একটি নৌ চলাচলপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় তারা খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন। তবে এ সমঝোতা হলেই যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে যাবে, তা নয়। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতেও সমাধান প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ওমান জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে এগোচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দেশটি তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বা জাহাজ চলাচলে ইরানের আরোপ করা যেকোনো ধরনের টোলের বিরোধিতা করছে। ওয়াশিংটন চায়, প্রণালিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত থাকুক।
এর মধ্যেই শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল-গ্যাস কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। অ্যাডনক জানিয়েছে, ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমানের খাসাব শহরের পূর্বে একটি জাহাজে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জাহাজ ও এর সব ক্রু নিরাপদ রয়েছে। তবে এটি অ্যাডনকের জাহাজে হামলার একই ঘটনা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। চূড়ান্ত চুক্তির মেয়াদ পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছিল।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলতে তেহরানের কঠোর শর্ত এবং সাম্প্রতিক জাহাজে হামলার অভিযোগে আলোচনা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সূত্র: এপি, রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available