আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে পৌঁছেছে। রাজধানী তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাস্তায় নেমেছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। আগামী ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হেলিকপ্টারে করে আলী খামেনির মরদেহ ৭ জুলাই মঙ্গলবার রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পবিত্র শহর কোমে আনা হয়। সেখানে শোকযাত্রা শেষে বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, শোকযাত্রায় মানুষের উপস্থিতি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার সমাবেশের সঙ্গে তুলনীয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বহন করা হয়। শোকাহত মানুষ কফিনের ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শ্রদ্ধা জানান। নিহতদের মধ্যে খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট কফিনও ছিল বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
শোকযাত্রায় অংশ নেয়া হামিদ নামে এক ব্যক্তি আল জাজিরাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের নেতা সেই বিভক্তি ঠেকিয়েছেন। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এখানে এসেছি।’
আরেক শোকাহত মারজিয়েহ বলেন, ‘আমরা আমাদের শহিদ নেতাকে জানাতে এসেছি যে তার রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা তার প্রতি আমাদের আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করতে এসেছি।’
এদিকে খামেনির উত্তরসূরি ও ছেলে মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পরও তিনি জানাজায় উপস্থিত হননি।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ এসলামী বলেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে মোজতবার জনসমক্ষে আসা সম্ভব হয়নি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান জাফর মিয়াদফার জানিয়েছেন, শোকানুষ্ঠানে অংশ নেয়া ৩৪ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়েছে। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
শোকযাত্রায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই, কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর বলেন, ‘লাখো মানুষের এই উপস্থিতি ইরানি জাতির পক্ষ থেকে তাদের শত্রুদের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা।’
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, আইআরআইবি, আইআরএন
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available