আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের জব্দকৃত অর্থ ব্যবহার করে দেশটির হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর পুনর্গঠন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব কি না—তা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ইরানের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ বা পুনর্গঠন তহবিল গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত হিসেবে তাদের জব্দকৃত অর্থ দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, কোনো সমঝোতা হলে ইরানের জব্দকৃত সম্পদের অন্তত ৫০ শতাংশ অবিলম্বে ছাড় দিতে হবে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি কার্যকর করতে হলে নিষেধাজ্ঞার কারণে আটকে থাকা প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ইরানি সম্পদ সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান মতপার্থক্যের কারণে সম্ভাব্য সমঝোতা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ইরান বলছে, ইসরায়েলের লেবানন হামলা বন্ধ না হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি নিয়ে নতুন কাঠামোতে সমঝোতা তৈরি করতে। তবে এসব বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় চূড়ান্ত চুক্তি এখনো অনিশ্চিত।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available