আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবেশের ঘটনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) তিন নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্ক শিন্দেকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। আজ ১৪ অক্টোবর বুধবার ভোরে দলটির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ এ তথ্য জানিয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে সিজেপির দাবি, তিন নেতার বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, জামিনের শর্ত লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রত্না সিংহ জানান, যন্তর মন্তর-সংক্রান্ত ঘটনায় সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক শিন্দেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে।
সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বুধবার সকালে তাঁদের মন্দির মার্গ থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হতে পারে। পরে তাদের দিল্লির তিহার কারাগারে পাঠানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে দলটি।
রত্না সিংহের অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত গ্রেফতার নেতাদের সঙ্গে তাদের আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে বুধবার ভোর ৩টার দিকে তাদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে সিজেপি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে যন্তর মন্তরের প্রবেশপথের ওপর দিয়ে উঠে সিজেপির তিন নেতা নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে কয়েকজন দলীয় সমর্থকও ছিলেন। সেখানে প্রবেশের পর তারা জাতীয় পতাকা মেলে ধরেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে।
পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্যদের আটক করা হলেও তিন নেতার ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আগেও গ্রেফতার হয়েছিলেন নেতারা
এর আগে গত ১০ অক্টোবর শনিবার দিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সিজেপির কয়েকজন নেতাকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে আদালত থেকে এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে জামিন পান সৌরভ দাস ও তার সহযোগীরা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানায়। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
যন্তর মন্তরের পরিবর্তে প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে—রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি এলাকা। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব স্থানেই এখন থেকে কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে।
তবে ওই নির্দেশনা অমান্য করে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করায় সিজেপির তিন নেতা আবারও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটির সঙ্গে দিল্লি পুলিশের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available