আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আগামী ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৪০ কোটি তরুণের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। ফলে প্রায় ৮০ কোটি তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রশাসক আলেকজান্ডার ডি ক্রু এ সতর্কবার্তা দেন।
ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক সভা চলাকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডি ক্রু জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অনেক দেশে জনসংখ্যার মধ্যম বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা তাই বড় চ্যালেঞ্জ। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নীতিগত পরিবর্তন ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কারণ, কর্মসংস্থানের এই সংকট নিজে থেকে সমাধান হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকটের তিনটি বড় কারণ তুলে ধরেন ইউএনডিপি প্রশাসক। এগুলো হলো জ্বালানির উচ্চমূল্য, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এল নিনোর প্রভাব এবং ঋণ গ্রহণের বাড়তি ব্যয়।
ইউএনডিপির নতুন নীতিগত প্রতিবেদন ‘নো টাইম টু রিকভার’-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে মধ্যম অবস্থানে থাকা একটি দেশ গড়ে তার মোট সরকারি রাজস্বের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করছে। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
সংস্থাটির মূল্যায়নে, অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব শুধু আয় ও কর্মসংস্থানে সীমাবদ্ধ নেই। বিদ্যুৎ, পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। ২০১০ সালের পর এই প্রথম এ ধরনের দারিদ্র্যের সূচকে অবনতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্মসংস্থানের ঘাটতি মোকাবিলা এবং বিনিয়োগ বাড়াতে দুটি নতুন বৈশ্বিক উদ্যোগ চালু করেছে ইউএনডিপি। উদ্যোগ দুটি হলো বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধির জন্য কর্মসংস্থান সুবিধা। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের অংশীদারত্বে এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। নেপাল, ইয়েমেন, হাইতি, লেবানন ও ঘানায় এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির কারণে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও প্রশ্নের জবাব দেন ডি ক্রু। তিনি বলেন, প্রযুক্তির প্রসার সত্ত্বেও পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি এবং পর্যটনের মতো খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। সঠিক নীতি ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতার সমন্বয় করা গেলে নতুন কাজের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব।
বিনিয়োগ বাড়াতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বিমা সুরক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরে ইউএনডিপি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। এর মধ্যে মাত্র ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষতি বিমার আওতায় ছিল। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ ঝুঁকিতে থাকা অর্থনৈতিক খাতগুলোকে সুরক্ষার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান ডি ক্রু। তার মতে, দারিদ্র্য থেকে মানুষকে স্থায়ীভাবে বের করে আনতে এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিকল্প নেই।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available