পিরোজপুর প্রতিনিধি : প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে পিরোজপুরের কালিকাঠি গ্রামে নির্মিত সেতুতে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে দুই পাশে কাঠের অস্থায়ী সিঁড়ি বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ। সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদার ও এলজিইডির তৎকালীন কর্মকর্তাদের অবহেলায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও হয়নি সংযোগ সড়ক।দুর্ভোগে ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী গ্রামের মানুষের ভোগান্তি কমাতে মোল্লা বাড়ির খালের ওপর ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারী ২১ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজের সময়সীমা ছিল ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারী পর্যন্ত। মাত্র এক বছরের মাথায় কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৫ বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহিউদ্দিন আহম্মেদ।
সেতুটির স্ট্রাকচারের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ করে গত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট এর পর সেতুটির সংযোগ সড়কের কাজ বাকী রেখে পালিয়ে যায়ঠিকাদার। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল–মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি, রোগী ও বৃদ্ধ নারী–পুরুষসহ প্রায়পাঁচ শতাধিক মানুষ যাতায়াত করেন।
ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের সময় মাঝেমধ্যেই পা পিছলে দুর্ঘটনা ঘটছে। যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক বিহীন এ সেতুটি এখন ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের। মসজিদের মুসল্লী, বৃদ্ধ নারী ও পুরুষ
ঠিকাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সেতুর কাজ বাতিলের জন্য জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সুপারিশ করা হয়।
সিনিয়র সহকারি প্রকৌশলী, এলজিইডি, পিরোজপুর লায়লা মিথুন বলেন, ৫ই আগস্ট এর পরে ঠিকাদার এ কাজ ফেলে পালিয়ে গেছে। এটি পুনরায় টেন্ডারের জন্য প্রসেস চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কবিহীন অসমাপ্ত সেতুঘিরে প্রতিদিনই বাড়ছে শঙ্কা ও দুর্ভোগ। সেতুটির কাজ অসমাপ্ত কাজ শেষ হলে দুর্ভোগ কমবে কালিকাঠী গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় স্থানীয়বাসিন্দারা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available