কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: গত এক মাস ধরে জয়পুরহাট জেলার সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ফার্মেসিগুলোতে তীব্র জলাতঙ্কের (র্যাবিস) ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি সরবরাহ বন্ধ থাকায় কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার রোগীরা প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না পেয়ে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিন ধরে সেখানে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো মজুত নেই। ফলে প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগীকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরামর্শ দিতে হচ্ছে। অথচ জেলার বেশিরভাগ ফার্মেসিতেও নিয়মিত ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও অল্প পরিমাণে পাওয়া গেলেও তা এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


রোগীদের অভিযোগ, আগে পৌরসভাগুলোতে বিনামূল্যে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। এতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকে জেলা শহর ছাড়িয়ে পাশের জেলাগুলোতে গিয়ে অতিরিক্ত দামে ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখনো ভ্যাকসিন পৌঁছায়নি। ওষুধ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কাঁচামালের সংকটের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, “রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, কিন্তু ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। বর্তমানে রোগীদের বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে বলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আল মামুন জানান, বর্তমানে জেলায় সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো মজুত নেই। তবে দ্রুত সংকট নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available