যে কারণে চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসায় গিয়েছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম-এর বাসায় গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে দুটি গাড়িতে করে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসায় পৌঁছালে তার উপস্থিতির খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে জড়ো হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা বাড়ির মূল ফটক ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।অবরুদ্ধ অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহর উদ্দেশে নানা প্রশ্ন তোলেন। তারা জানতে চান, কেন তিনি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন এবং তার এই সফরের উদ্দেশ্য কী। একই সঙ্গে তারা স্লোগান দিতে থাকেন।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাইরে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন এবং পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।জানতে চাইলে সাবেক মেয়র মনজুর আলম সন্ধ্যায় বলেন, ‘সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে এসেছিলেন। পরে উনি আমার বাসায় বেড়াতে আসেন। বাসায় তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।’এনসিপির প্রার্থী হয়ে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনজুর আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর বাসায় হাসনাত আব্দুল্লাহর যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মনজুর আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনো বিষয়েই আমাদের মধ্যে আলাপ হয়নি।’বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে তাঁরা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয় নেতাই আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’জানা গেছে, মনজুর আলমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মাধ্যমে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন এবং টানা চারবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হলে তিনি প্রায় দুই বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।২০১০ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর আলম। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। পরে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।তবে ২০১৫ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন এবং রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে তাকে আবারও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা যায়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন।সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর তিনি কখনো বিএনপি, আবার কখনো এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।