• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২রা ভাদ্র ১৪৩৩ রাত ১০:১৩:৪০ (17-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:
পারেদেসকে কন্ট্রোল করো মেসি, আরেকটা হলুদ কার্ড দিতে চাই না: ভিনচিচ

পারেদেসকে কন্ট্রোল করো মেসি, আরেকটা হলুদ কার্ড দিতে চাই না: ভিনচিচ

স্পোটর্স ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলো দেখার সবচেয়ে ভালো জায়গায় ছিলেন স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। এবার প্রকাশ্যে এসেছে সেই ম্যাচের রেফারি-ভিউ ফুটেজ। আর তাতেই স্পেন ও আর্জেন্টিনার রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের বেশ কিছু অদেখা মুহূর্ত উঠে এসেছে দর্শকদের সামনে।গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন ও আর্জেন্টিনা। প্রায় পাঁচ মিনিটের প্রকাশিত ফুটেজে ম্যাচ শুরুর টানেল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত সময়ের গোল, ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী-সবকিছুরই কিছু অংশ দেখা গেছে ভিনচিচের দৃষ্টিকোণ থেকে।ফুটেজের শুরুতেই দেখা যায়, ম্যাচ শুরুর আগে লিওনেল মেসি স্পেনের একাধিক খেলোয়াড়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। মার্ক কুকুরেয়া ও রদ্রির সঙ্গে আলিঙ্গনও করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপর ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় ও করমর্দন করেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা।তবে কয়েন টসের সময় রেফারি ভিনচিচ, মেসি ও রদ্রির কথোপকথন প্রায় শোনাই যায়নি। কারণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সাউন্ড সিস্টেমে তখন জোরে বাজছিল ডেভিড গুয়েটার জনপ্রিয় গান ‘টাইটানিয়াম’।ম্যাচ যত এগিয়েছে, ভিনচিচের সঙ্গে মেসির যোগাযোগও ছিল চোখে পড়ার মতো। আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই হলুদ কার্ড দেখেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেসির সাহায্য নেন রেফারি।ফুটেজে ভিনচিচকে মেসিকে বলতে শোনা যায়, ‘মেসি, পারেদেসকে কন্ট্রোল করো। আমি চাই না... তার হলুদ কার্ড আছে। দয়া করে নিয়ন্ত্রণ করো। সবসময়, সবসময়।’মেসি তখন রেফারির সঙ্গে তর্কে না গিয়ে বিষয়টি বুঝে নেন। পরে পারেদেস আর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেননি। তবে ম্যাচ শেষে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে গলা ধরে টানার মতো আচরণ করতে এবং পরে গাভিকে মাটিতে ফেলে দিতে দেখা যায় তাকে।ফিফা পরবর্তীতে পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি হামলার অভিযোগে তদন্ত শুরু করে।ফুটেজে মেসিকে একটি কঠিন পরিস্থিতিতেও দেখা যায়। স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি মেসিকে ধরে ফেললে তিনি রেফারির দিকে তাকান। তখন ভিনচিচ বলেন, ‘লিওনেল, আমি দেখছি।’রেফারির এই আশ্বাসের পর মেসি আর কোনো তর্কে না গিয়ে পরিস্থিতি থেকে সরে যান।ম্যাচের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল লামিনে ইয়ামালকে ঘিরে। স্পেনের এই তরুণ তারকা পাল্টা আক্রমণে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ফাউল করেন আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ইয়ামালকে থামাতে করা সেই ফাউলের জন্য মার্টিনেজকে হলুদ কার্ড দেখান ভিনচিচ।ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি ছিল ফেরান তোরেসের গোল। অতিরিক্ত সময়ে ১০৬ মিনিটে স্পেনের হয়ে জয়সূচক গোল করেন তোরেস।রেফারি-ভিউ ফুটেজে সেই গোলের দৃশ্যও ধরা পড়েছে। ভিনচিচ তখন পেনাল্টি এলাকার ঠিক বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তোরেস কাছ থেকে শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন।এরপর ভিনচিচ যখন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে চারপাশের পরিস্থিতি দেখেন, তখন ফুটে ওঠে দুই দলের বিপরীত আবেগ। একদিকে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা হতাশায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন, অন্যদিকে স্পেনের খেলোয়াড়েরা উল্লাসে ছুটে যাচ্ছেন কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে।ফাইনালের পর ম্যাচ শেষের ঘটনাও ফুটেজে ধরা পড়েছে। শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের দানি ওলমোর সঙ্গে কথা বলেন ভিনচিচ। রেফারিকে বলতে শোনা যায়, ‘তারা খুব কঠিন ছিল, খুব কঠিন।’ জবাবে ওলমো তাকে বলেন, ‘তুমি দারুণ করেছ।”এরপর ভিনচিচ ওলমোকে জানান, এটিই ছিল রেফারি হিসেবে তার শেষ ম্যাচ। ২৭ জুলাই তিনি অবসরের ঘোষণা দেন।বিশ্বকাপের এই রেফারি-ভিউ প্রযুক্তি মূলত ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপে সফল ব্যবহারের পর পুরুষদের বিশ্বকাপে আরও বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, রেফারির মাথায় হালকা ওজনের একটি ভিডিও ডিভাইস লাগানো থাকে, যা রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে উচ্চমানের ভিডিও ও অডিও ধারণ এবং সরাসরি সম্প্রচার করতে পারে।তবে সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে এই ফুটেজ প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সংঘর্ষ, গুরুতর ফাউল বা চোটের মতো ঘটনায় ফুটেজ প্রকাশের আগে অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।এ কারণেই ফাইনাল শেষে মেসি-পারেদেসসহ খেলোয়াড়দের সংঘর্ষের পুরো দৃশ্য রেফারি-ভিউ ফুটেজে দেখানো হয়নি।ফাইনাল ম্যাচে ভিনচিচের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ, মেসির সঙ্গে যোগাযোগ এবং শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল-সবকিছুর একেবারে কাছ থেকে সাক্ষী ছিলেন তিনি। আর প্রকাশিত এই ফুটেজে সেই অভিজ্ঞতাই এবার ফুটে উঠেছে রেফারির নিজের চোখ দিয়ে।