• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১৩ই আষাঢ় ১৪৩৩ দুপুর ১২:০৮:৫৯ (27-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:
বাংলাদেশে বিনিয়োগে চীনা ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে বিনিয়োগে চীনা ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে চীনের ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু চীনের সঙ্গে আরও গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতায় আগ্রহী।২৫ জুন বৃহস্পতিবার চীনের বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাইয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক কয়েক দশকের আস্থা, পারস্পরিক সম্মান ও বাস্তবধর্মী সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই সম্পর্ক এখন কূটনীতির গণ্ডি পেরিয়ে উন্নয়ন, বাণিজ্য ও শিল্পখাতে বিস্তৃত অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের কিছু প্রতিবন্ধকতা দূর করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।চীনের বৈশ্বিক উৎপাদন ও বিনিয়োগ কাঠামোর পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উচ্চমূল্য সংযোজনভিত্তিক উৎপাদন, আধুনিক অবকাঠামো ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে চীনের অগ্রগতির ফলে নতুন শিল্পগন্তব্যের প্রয়োজন বাড়ছে। বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলোর একটি হতে পারে।তারেক রহমান বলেন, চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশকে বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খল সম্প্রসারণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এখান থেকে তারা যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে, তেমনি দেশের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধাও নিতে পারবে।বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানান তিনি। এর আওতায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাজের পুনরাবৃত্তি হ্রাস এবং সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও সেবার গতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বৈষম্যহীন সুবিধা পাবেন এবং আইন অনুযায়ী মূলধন ও লভ্যাংশ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি তাদের জন্য শক্তিশালী আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হবে।তিনি জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ শিল্পভিত্তিক অবতরণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল। এসব এলাকায় বন্দরসংযোগ, পরিবহন সুবিধা, ইউটিলিটি সেবা, শ্রমশক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ইকোসিস্টেম নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বিডায় চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ডেস্ক চালুর পাশাপাশি একটি বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, খুব শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ অফিস চালু করা হবে, যাতে চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসার আগেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পান।সম্প্রতি ঘোষিত জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিকস, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সবশেষে চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এশিয়ার পরবর্তী বৃহৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সহ-নির্মাতা হতে চীনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। তিনি আরও বেশি চীনা কোম্পানিকে বাংলাদেশ সফর করে নতুনভাবে দেশটিকে দেখার আহ্বান জানান।সূত্র: দেশ রূপান্তর