• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৫ই মাঘ ১৪৩২ সকাল ১১:৩৭:৫০ (28-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:
অভিযোজন অর্থায়নে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদার

অভিযোজন অর্থায়নে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণে বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক: অভিযোজন অর্থায়নে জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় পাঁচ দিনব্যাপী একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সম্প্রতি বিআইবিএম ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচির শিরোনাম ছিল— ‘জেন্ডার-রেসপনসিভ মাস্টারক্লাস অন অ্যাডাপটেশন ফাইন্যান্স: জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির জন্য জাতীয় সক্ষমতা উন্নয়ন।’মাস্টারক্লাসে বিআইবিএম, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) থেকে মোট ৩০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ক বিবেচনা সংযুক্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রশিক্ষণ দেন বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিআইবিএম-এর অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ এবং ব্যাংকিং খাতের জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীরা।এই কর্মসূচি ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (ToT) উদ্যোগের ধারাবাহিকতা। জিসিএ-এর সহায়তায় এবং জ্ঞান সহযোগী হিসেবে ফ্রাঙ্কফুর্ট স্কুল অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট জাতীয় প্রশিক্ষকদের অভিযোজন অর্থায়নে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেয়, যাতে ভবিষ্যতে এই প্রশিক্ষণ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনা করা যায়।সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে জিসিএ-এর অ্যাডাপটেশন ফাইন্যান্স বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার এম. মোসলেহ উদ্দিন প্রশিক্ষণের ফলাফল ও শিক্ষণীয় দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু ঝুঁকি ও সহনশীলতা অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার বলেন, জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার বাড়াতে সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, টেকসই অভিযোজনের জন্য সুপরিকল্পিত ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন কৌশল অপরিহার্য, যা নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়ন সম্ভব।অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ও উইং প্রধান এ.কে.এম. সোহেল বলেন, জলবায়ু অভিযোজন এখন কেবল পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং ইস্যু। তিনি বলেন, “জলবায়ু দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের বড় বিনিয়োগ সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে থাকবে।”বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আর্থিক খাতের জন্য একটি বাস্তব ও গুরুতর ঝুঁকি। জলবায়ুজনিত ধাক্কা ঋণঝুঁকি বাড়ায় এবং কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এমএসএমই) ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি প্রভাব ফেলে। এ কারণে অভিযোজন অর্থায়ন আর্থিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।জিসিএ-এর অ্যাডাপটেশন ফাইন্যান্স টিমের গ্লোবাল লিড (ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও নেচার-বেসড সল্যুশনস) অ্যাডেল ক্যাডারিও বলেন, অভিযোজন অর্থায়নকে দাতব্য নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি জানান, জিসিএ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করে অভিযোজনকে অর্থনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধির একটি কার্যকর বাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।সমাপনী বক্তব্যে জিসিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রিটা লোহানি জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উন্নয়ন উদ্যোগে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অভিযোজন একটি জরুরি উন্নয়ন প্রয়োজন। জলবায়ু লক্ষ্যকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপান্তর এবং ঋণ মূল্যায়ন ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে জলবায়ু ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত করতে আর্থিক খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।সফল পাইলট কার্যক্রমের পর বিআইবিএম দেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এই মাস্টারক্লাস নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকযোগ্য অভিযোজন বিনিয়োগ চিহ্নিত ও কাঠামোবদ্ধ করার সক্ষমতা বাড়বে, যা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।