দেবীগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের জেলার দেবীগঞ্জে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে মধ্যরাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ।২৯ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।ভিডিওতে দলীয় স্লোগানের পাশাপাশি ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধ রায়-মানি না মানবো না’, ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের রায়-মানি না মানবো না’, ‘দেবীগঞ্জের মাটি-আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’-এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।মধ্যরাতে মিছিল বের করায় এবং অধিকাংশের চেহারা ঢাকা থাকায় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ছাড়া অন্য কারও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি সাবেক রেলমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম সুজনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে ভিডিও দেখে মিছিলটি দেবীগঞ্জ পৌরসভার করতোয়া সেতু এলাকায় হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি-জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি জানান, পুলিশের উদাসীনতার সুযোগে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের অভিযোগ-আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত অন্তত তিনজন ইউপি চেয়ারম্যান এখনও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে দুইজন সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদের নামে কোনো মামলা নেই, তেমনি পুলিশের নজরদারির মধ্যেও নেই। এর পেছনে ভোটের রাজনীতি কাজ করছে বলে দাবি তাদের। আরও অভিযোগ, দেবীগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা থাকলেও রাজনৈতিক নির্দেশ ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করে না পুলিশ।দেবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান সুমন বলেন, ‘গত এক বছরে উপজেলা কিংবা পৌর ছাত্রলীগের পদধারী কোনো নেতাকে গ্রেফতার করা হয়নি। তারা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। যখন তারা কোনো মিছিল-মিটিং করে তখন পুলিশ তৎপর হয়। দুই এক দিন পর আবার আগের মতো নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। যার ফলস্বরূপ গতকাল রাতে পৌরসভায় ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের লোকজন বিক্ষোভ মিছিল করে।’দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, ‘চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে আমরা লক্ষ্য করছি পুলিশ প্রশাসনের নমনীয়তার সুযোগে তারা রাতের আঁধারে মিছিল করে বেড়াচ্ছে। আমরা তাদের বলতে চাই তাদের সাহস এবং শক্তি সামর্থ্য থাকলে দিনের আলোতে মিছিল করুক, দেবীগঞ্জের মানুষ তাদের প্রতিহত করবে ইনশাল্লাহ।’এ বিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা বারবার দেখেছি- ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল পদধারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের এক ধরনের অনীহা রয়েছে। দেবীগঞ্জে সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে পৌরসভার ভিতর রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করছে। আবার দিনের বেলায় এলাকাজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারপরও পুলিশ নাকি তাদের খুঁজে পায় না। এটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রকাশ্য প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।’এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোয়েল রানা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। এখনও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী পাইনি। তবে লোকেশন নিশ্চিত হতে করতোয়া সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ চেক করা হচ্ছে।