মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় তেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাবে টানা চতুর্থ সেশনে বেড়েছে তেলের দাম। ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৩৩ ডলারে পৌঁছায়।একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়ায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।আগস্টের শুরু থেকে ব্রেন্টের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে ব্রেন্টের দাম দ্রুত ১০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমার কাছাকাছি চলে এসেছে।এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হয়। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে হামলা চালায়। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরবও সংঘাতের আরও গভীরে জড়িয়ে পড়ে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে এবং ইরান জর্ডানে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এসব ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা দ্রুত শুরুর সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করেছে। ফলে তেলের বাজারে ঝুঁকির কারণে অতিরিক্ত মূল্য যোগ হচ্ছে।আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পথ বাকি। এ অবস্থায় বাজারে বড় ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় তেলের দামে বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার কারণে তেল সরবরাহ আগে থেকেই চাপে রয়েছে। সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু তেল রপ্তানি অন্য পথে সরিয়ে নিয়েছে। তবে দেশটির ওপর ধারাবাহিক হামলা হলে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন।ওসিবিসির বিশ্লেষকেরা বলেছেন, সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা এবং পরবর্তী সময়ে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংসের ঘটনায় তেল সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।