খামেনি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে কঠোর বার্তা ইরানের প্রেসিডেন্টের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।১ মার্চ রোববার সকালে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে এর কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই গুরুতর অপরাধ কখনোই অপ্রতিক্রিয়ায় থাকবে না। এটি ইসলামি বিশ্ব ও শিয়াবাদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত করবে। এই মহান নেতার বিশুদ্ধ রক্ত উন্মাতাল স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়ে মার্কিন-জায়োনিস্টদের শোষণ ও অপরাধ নির্মূল করবে।’আরও বলা হয়, ‘আমরা আমাদের সব শক্তি ও দৃঢ়তা নিয়ে, ইসলামি জাতি ও বিশ্বের মুক্ত মানুষের সমর্থনে, এই অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও দায়ীদের অনুতপ্ত করব।’প্রেসিডেন্ট ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন।এদিকে, রোববার খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও তিনি আগের দিন ভোরে হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে তেহরানে তার কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।সংবাদমাধ্যম বিবিসি ওইদিন তার বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে। প্রকাশিত ছবিতে ভবনটির বড় অংশ ধসে পড়া ও বিস্ফোরণের চিহ্ন দেখা যায়।ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় শনিবার ভোরে খামেনিকে তার কার্যালয়েই হত্যা করা হয়।উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র। এরপর দেশটি দুজন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পেয়েছে, যাদের পদবী ‘আয়াতুল্লাহ’। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন।