ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সামিটের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করেছে।
গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, সামিটে অংশ নিতে দেশি-বিদেশি ছয় হাজার অংশীজন নিবন্ধন করেছেন।
তিনি জানান, দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করা এবং জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের এ সামিটের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চলমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে রূপান্তর ঘটছে। এ বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’।
মন্ত্রী জানান, দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম অধিবেশন শুরু হবে দুপুর ১২টায়। এতে এআই বিপ্লবের গতিপথ, নীতি, দক্ষতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন।
একই সময়ে ‘হল অব ফেম’-এ দ্বিতীয় অধিবেশনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের অংশীদারত্ব জোরদার এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
দুপুর ৩টায় তৃতীয় অধিবেশনে ‘ডিজিটাল সহকর্মী’ হিসেবে এআই এজেন্টদের ভূমিকা এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হবে।
থাকছে ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল
সামিটে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানি, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে মোট ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। এসব স্টলে দেড় শতাধিক নতুন উদ্যোগ ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রকল্প তুলে ধরবে।
এ ছাড়া ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজ) শিক্ষার্থীদের তৈরি এআই প্রকল্প ও নমুনা প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য আলাদা স্টল থাকবে।
আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এবং পাকিস্তানের চারটিসহ মোট পাঁচটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সামিটে অংশ নেবে।
ফকির মাহবুব আনাম আরও জানান, সামিটে প্রায় ছয় হাজার দর্শনার্থী ও দুই হাজার আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে ঢাকা চেম্বার ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০০ জন বিশেষ অতিথি থাকবেন।
দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন বক্তা ও আলোচক সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআইয়ের এ যৌথ উদ্যোগ দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির রূপান্তর এবং টেকসই এআই পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের চর্চা বাড়ানো; গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও গবেষণাপত্রকে তত্ত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাজারের উপযোগী করা; বিনিয়োগকারী ও বাজারের সঙ্গে গবেষকদের কার্যকর সংযোগ তৈরি করা এবং এআই, অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি, জীবপ্রযুক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা ও সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে বিশেষভাবে কাজ করা।
এ ছাড়া দেশে বিপুলসংখ্যক মেধাবী স্নাতক তৈরি হওয়ায় তাদের দক্ষতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি নতুন ওষুধ এবং জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্য উদ্ভাবনে জীবপ্রযুক্তি পার্ক স্থাপনের বড় সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব।
এটিভি/এসআইআর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available