স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে এই কীর্তি গড়ে নর্ডিক দেশটি। ম্যাচের নায়ক ছিলেন আর্লিং হালান্ড, যার জোড়া গোলে নিশ্চিত হয় নরওয়ের ঐতিহাসিক জয়।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে প্রথম গোল করেন হালান্ড। এরপর নির্ধারিত সময়ের ৮৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হালান্ড বলেন, ‘হয়তো এই জয় নরওয়ের ইতিহাসে বিশেষ একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে। সবাই এই মুহূর্তটা উপভোগ করুন। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য একটি দিন। নরওয়ের ফুটবলে এমন মুহূর্ত খুব কম এসেছে। আমরা শুধু এই সাফল্য উপভোগ করছি।’
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত। ফলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের সমতায় পৌঁছেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ১৪ ম্যাচে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় ব্রাজিল। অতিরিক্ত সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ততক্ষণে জয় নিশ্চিত করে ফেলেছিল নরওয়ে।
জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালান্ড একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে লেখেন, ‘আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা।’ অনেক সমর্থক এটিকে ব্রাজিলের প্রতি পরোক্ষ খোঁচা হিসেবে দেখছেন। পরে আরেক পোস্টে তিনি ম্যাচটিকে ‘নরওয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ’ বলে উল্লেখ করেন।
নরওয়ের প্রধান কোচ স্তালে সোলবাক্কেনও দলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আজ নরওয়ের প্রতিটি মানুষ জীবনের অন্যতম সেরা একটি রাত কাটাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এই দল নরওয়ের ফুটবলকে বদলে দিয়েছে। সম্ভবত পুরো দেশ এক সপ্তাহ ধরে এই সাফল্য উদযাপন করবে।’
সূত্র: ইএসপিএন
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available