• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২রা ভাদ্র ১৪৩৩ বিকাল ০৪:০৩:৪৪ (17-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

টাইগারদের বিপক্ষে হারের পর এবার শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

১৭ আগস্ট ২০২৬ বিকাল ০৩:০৩:৪৩

টাইগারদের বিপক্ষে হারের পর এবার শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের হতাশাজনক হারের ধাক্কা সামলানোর আগেই নতুন শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ওভার শেষ করতে না পারায় অজিদের ম্যাচ ফির বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে। এমনকি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্টও হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

১৬ আগস্ট রোববার টেস্টের চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়া। এর আগের দিন, শনিবার ৯০ ওভারের ন্যূনতম লক্ষ্যের বিপরীতে মাত্র ৮৬ ওভার করতে পেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে চার ওভার পিছিয়ে ছিল তারা।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, একটি দলকে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৫ ওভার করতে হয়। এক দিনের খেলায় ন্যূনতম ৯০ ওভার সম্পন্ন করার কথা। নির্ধারিত ওভার রেটের ঘাটতির ক্ষেত্রে প্রতি ওভারের জন্য সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে।

প্রতি টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি প্রায় ২০ হাজার ডলার। সে হিসাবে প্রতি ওভারের ঘাটতিতে একজন খেলোয়াড়ের ১ হাজার ডলার করে জরিমানা হতে পারে। চার ওভার কম হওয়ায় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারেন প্রত্যেক খেলোয়াড়।

তবে এখনই শাস্তি নিশ্চিত নয়। ম্যাচ রেফারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। ডারউইনের তীব্র গরম ও আর্দ্রতা, উইকেট পতনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেয়া হতে পারে। ফলে এসব কারণ অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের জন্য শাস্তি এড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

শুধু জরিমানাই নয়, ওভার রেটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার ডব্লিউটিসি পয়েন্টও কাটা যেতে পারে। চার ওভার ঘাটতির কারণে সর্বোচ্চ চার পয়েন্ট হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ৮৪ পয়েন্ট ও ৭৭.৭৮ শতাংশ জয়ের হার নিয়ে ডব্লিউটিসির শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট ৩৬, জয়ের হার ৭৫ শতাংশ।

ওভার রেটের শাস্তির কারণে পয়েন্ট হারানোর অভিজ্ঞতা অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার নতুন নয়। ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে ধীর ওভার রেটের কারণে চার পয়েন্ট কাটা যাওয়ায় ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারেনি তারা।

এদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হারটি ছিল তাদের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়। চতুর্থ দিন শুরুতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া।

আলেক্স ক্যারি ও বিউ ওয়েবস্টার দ্রুত ফিরে গেলে অস্ট্রেলিয়া বড় ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়ে। তখন দলকে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরান ক্যামেরন গ্রিন। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে নিজের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০৪ রানে বোল্ড হন গ্রিন।

এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কও ফিরে গেলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয় মাত্র ৫৪ রানে। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৫।

বাংলাদেশের রান তাড়ায় শুরুতেই তানজিদ হাসানকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন জশ হ্যাজলউড। প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করা তানজিদ এবার কোনো রানই করতে পারেননি।

তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দুজনের ব্যাটে বাংলাদেশ অনায়াসেই বাকি ৫৩ রান তুলে নেয় এবং ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে।

ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স দলের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না বলে জানান। তিনি বাংলাদেশের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, অজুহাত দেয়ার কিছু নেই; তাদের আরও দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে হতো।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংও দলের পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, এই হারের পর দলে নতুন ওপেনার ও তিন নম্বরে নতুন কাউকে সুযোগ দেয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

বাংলাদেশের এই জয় তাই শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ই নয়; একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সামনে এনে দিয়েছে ধীর ওভার রেটের সম্ভাব্য শাস্তি এবং দল পুনর্গঠনের বড় প্রশ্নও।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ






তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত
তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত
১৭ আগস্ট ২০২৬ দুপুর ০১:৪০:৩০