ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট খবরের বিষয়ে নজর রাখছে দলটি। প্রাথমিক তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে প্রচারিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা যাচাই শেষে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বলেছেন, জামায়াতে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, দলে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন; প্রয়োজনে আমির বা তিনি নিজেও ছাড় পাবেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দল যদি একজন সংসদ সদস্যকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করে এবং এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ বাতিলের আবেদন জানায়, তাহলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ হারানোর বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তবে শুধু দলীয় বা সাংগঠনিক পদ থেকে অপসারণ করা হলে, স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
অতীতে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকির ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তের পর সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়েছিল। অন্যদিকে নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়ায় তার সংসদ সদস্যপদ বহাল ছিল।
২০ জুলাই সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে একটি কক্ষে দেখা যায়। ভিডিও প্রকাশের পর স্থানীয় জামায়াত নেতারা দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী।
২১ জুলাই মঙ্গলবার সকালে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং গাজী নজরুল ইসলাম তাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সূত্র: দেশ রূপান্তর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available