• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১৭ই কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ০২:১৫:১৪ (01-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:

পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম, উদ্বোধন ১ ডিসেম্বর

১ নভেম্বর ২০২৬ দুপুর ০১:১২:২৬

পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম, উদ্বোধন ১ ডিসেম্বর
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: পরিবার পরিকল্পনা জোরদার এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বছরব্যাপী প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ এই স্লোগান সামনে রেখে আগামী ১ ডিসেম্বর পরিচালিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে এ কর্মসূচি চলবে ৩০ নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানান গেছে, দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ও প্রজনন পরিস্থিতি বিবেচনায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

তাহসিফ হত্যা: রিমান্ডে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ, তরুণী গ্রেফতার

প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে এবং মাঠপর্যায়ে সেবা গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করা হবে। দেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে প্রজনন হার বৃদ্ধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রজনন হার বেড়ে ২.৪ হয়েছে।

অন্যদিকে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬২.৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮.২ শতাংশে নেমেছে।

আরও পড়ুন

ঢাকায় ই-রিকশা চলবে ৮ জোনে, নিবন্ধন কাল থেকে

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিয়ে বছরব্যাপী বড় ধরনের জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছি। চলবে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।’

তিনি বলেন, আমরা প্রাইমারি লেভেল থেকেই কার্যক্রম শুরু করব। জারি গান, সারি গান, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলাসহ নানা মাধ্যমে স্লোগান প্রচার করা হবে। তবে এ উদ্যোগ শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে দেশে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ছিল ৬.৩। ২০২২ সালে তা ২.১৫-এ নামলেও ২০২৫ সালে বেড়ে ২.৪ হয়েছে। গত দুই বছর অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রয়োজনীয় সংস্থান সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে পুলিশ বক্সে শ্রমিকদের আগুন

বাল্যবিবাহের হার ২৪ শতাংশ। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশ এবং এর ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে অনিরাপদ গর্ভপাত ঘটছে।

এ পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবায় গতি আনতে বছরব্যাপী ২২ দফা কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। এর মধ্যে মহিলা সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তকরণ, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার, হাট-বাজারে বিনা মূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সম্পৃক্ততা, ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করা, ‘মা ও গর্ভবতী সুরক্ষা সমাবেশ’, বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর সেবা, ২৩ হাজার ৫০০ ইউনিটে ‘ওয়েলবিং ক্লাব’ গঠন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘পরিবার সংলাপ’, কৈশোর ও যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, নবদম্পতি কাউন্সেলিং এবং পুরুষদের সম্পৃক্তকরণ।

বিনামূল্যে সরকারি পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীর প্রচার, পল্লী চিকিৎসক ও ধাত্রীদের রেফারেল অংশীদারি এবং এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন

সব রাজনৈতিক দলকে সংসদকেন্দ্রিক রাজনীতি করার পরামর্শ রাষ্ট্রপতির

এছাড়াও তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান ও বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র‌্যালি ও সমন্বয় সভা ছাড়া এক বছরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন এবং ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।

আরও পড়ুন

পোশাক শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার

ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা হবে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা কনডম, খাবার বড়ি, আইইউডি, ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্টসহ প্রায় ২৮ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করেন। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে এসব সামগ্রী কেনা বন্ধ থাকায় অনেক উপজেলা ও মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত নেই।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট পোর্টালের (এসসিএমপি) মনিটরিং ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৯৮টি উপজেলায় কনডমের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ৩৫৪টি উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং ৪২৮টি উপজেলায় আইইউডির মজুত নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের অপারেশনাল প্ল্যানের অসমাপ্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গর্ভনিরোধক সামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ডিসেম্বর নাগাদ এসব সামগ্রী সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জিনাত রেহানা বলেন, আমাদের জিনিসপত্র হাতে আসছে। এখন জনগণকে জানাতে হবে যে, গর্ভনিরোধক সামগ্রী আবার পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় পাওয়া যাবে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে এ জন্যই জাতীয়ভাবে একটি ক্যাম্পেইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে। একই সঙ্গে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কমাতে হবে এবং একটি সন্তানের পর পরবর্তী সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ বিরতি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করতে হবে।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ জনবল সংকট উল্লেখ করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়া পরিবার কল্যাণ সহকারীদের (এফডব্লিউএ) বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

আমাদের প্রায় ৩৭ শতাংশ জনবল ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ১৯-২০ হাজার কর্মী এখনো নেই, যা থাকার কথা ছিল। তবে জনবল সংকটের মধ্যেও বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। সূত্র: বাসস

এটিভি/এসটিও

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ