আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাথেডং এলাকায় রোহিঙ্গাদের একটি গ্রাম ছাড়ার জন্য ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তেও পড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
১৬ অক্টোবর শুক্রবার রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে বিজিবির প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যের রাথেডং এলাকার আহ নাউক পিয়িন গ্রামের বাসিন্দাদের ১৭ অক্টোবরের মধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা অধিকার পর্যবেক্ষণকারী একটি প্ল্যাটফর্ম এ তথ্য জানায়। একই ঘটনায় গ্রামের ৫১ জন রোহিঙ্গাকে আটক বা অপহরণের অভিযোগও সামনে এসেছে।
রোহিঙ্গা অধিকারকর্মীদের দাবি, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় রোহিঙ্গাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ, বাড়িঘর ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুত মানুষকে নিয়ন্ত্রিত শিবিরে আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটছে।
রাখাইনে নতুন করে রোহিঙ্গারা বাস্তুচ্যুত হলে বাংলাদেশের সীমান্তে চাপ বাড়তে পারে। মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে এর আগেও বহু রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। তাঁদের পাশাপাশি নতুন করে মানুষ প্রবেশের চেষ্টা করলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা দেখা দিলে বিজিবি কী ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকার ভূপ্রকৃতি দুর্গম; সেখানে পাহাড় ও ঘন জঙ্গল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিজিবি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
তিনি আরও জানান, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতির কার্যকর সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গ্রাম ছাড়ার নির্দেশের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটলে সীমান্ত পরিস্থিতি যাতে জটিল না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available