ডেস্ক রিপোর্ট: সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৩২২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা দিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৮৭৭ জনের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে এ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। খবর বাসসের।
সড়ক পরিবহন আইন ও বিধিমালার আওতায় গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কিংবা নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে এ সহায়তা পেতে পারেন।
সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ কার্যকর হওয়ার পর ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। বিধিমালার ১৫০(১) উপবিধি অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটনের ৯০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরম-৩২-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার আবেদন করা যায়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আইন উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম বাসসকে বলেন, কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ অনুযায়ী নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিধান রয়েছে।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করলে ট্রাস্টি বোর্ড বিধি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৬২ জনকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৯ অক্টোবর। ট্রাস্টি বোর্ডের চেক বিতরণের বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত ৭ হাজার ৮৭৭ জনের জন্য মোট ৩২২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ২০৬ কোটি ৮ লাখ টাকা।
এ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আহত ১ হাজার ৪৩২ জন, গুরুতর আহত ৬৮৪ জন এবং নিহত ৫ হাজার ৭৬১ জনের পরিবার রয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা
সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২-এর ১৪৯ বিধি অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে অথবা দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার এককালীন কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবে।
এ ছাড়া দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানি হলে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকলেও কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। তবে গুরুতর আহত হলেও চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকলে সহায়তার পরিমাণ কমপক্ষে ১ লাখ টাকা।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান বাসসকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়াই সবকিছুর শেষ কথা নয়। সড়ক দুর্ঘটনা যাতে রোধ করা যায় কিংবা একেবারে কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসার বিধান
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর ৬২(১) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট মোটরযানের চালক, কন্ডাক্টর বা তাদের প্রতিনিধি তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার বিষয়ে নিকটস্থ থানা, ফায়ার সার্ভিস, চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালকে অবহিত করবেন। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় দ্রুততম সময়ে তাকে নিকটস্থ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতালে পাঠানো এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ ছাড়া একই ধারায় পুলিশকে দেশব্যাপী টোল ফ্রি টেলিফোন নম্বর চালুর বিধান রাখা হয়েছে। এ নম্বরের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত মোটরযানের চালক, কন্ডাক্টর, মালিক, প্রতিষ্ঠান বা পরিচালনাকারী কিংবা তাদের প্রতিনিধি, যাত্রী অথবা দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষকারী যে কেউ জরুরি উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবার জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা চাইতে পারবেন।
হাইকোর্টের রায়ে ক্ষতিপূরণের দৃষ্টান্ত
সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি হাইকোর্টে রিট করে ক্ষতিপূরণ পাওয়ারও কয়েকটি দৃষ্টান্ত রয়েছে। এর মধ্যে বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে যাত্রাবাড়ীর হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় একটি পা হারান তরুণ প্রাইভেটকারচালক রাসেল সরকার। এ ঘটনায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়।
রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের রায়ের পর গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ তাঁকে ৩০ লাখ টাকা এবং চিকিৎসার জন্য আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছে বলে বাসসকে জানান রাসেল সরকার।
সাভারের সিআরপি থেকে কৃত্রিম পা সংযোজন করেছেন জানিয়ে রাসেল সরকার বলেন, হাইকোর্টের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। হাইকোর্টের রায়েই মোট ৩৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা পেয়েছি। তবে যে ক্ষতি আমার হয়েছে তা তো আর টাকায় পূরণ হবার নয়।
এটিভি/এসআইআর
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available