নিজস্ব প্রতিবেদক: ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর হয়েছে। ই-সিগারেট, ভ্যাপসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই অধ্যাদেশে।

১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর হয়।


প্রেস উইং জানায়, নতুন অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিড়ি উৎপাদনসংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী আইন কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এর আওতায় ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি), নিকোটিন পাউচসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’ এর সংজ্ঞা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে যেকোনো নতুন পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। পাশাপাশি ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিনজাত দ্রব্য’-এর পৃথক সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে এবং ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও বিস্তৃত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা আগের ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্রয়স্থলে প্যাকেট প্রদর্শন, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমে তামাক কোম্পানির নাম বা লোগো ব্যবহার এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ই-সিগারেটসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিড়ি উৎপাদন (নিষিদ্ধ) অধ্যাদেশ, ১৯৭৫ বাতিল করা হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক উপাদান মেশানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তাসহ স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
প্রেস উইং জানায়, নতুন এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশাবাদী।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available