আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানে প্রধান পাইলটকে হামলার অভিযোগে আটক সহপাইলটের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। হামলার পর বিমানটি হঠাৎ উচ্চতা হারিয়ে ফেললে যাত্রী ও ক্রুরা সহপাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহপাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। তিনি ওমানের নাগরিক। ইসরায়েলি ও অন্যান্য আঞ্চলিক সূত্রও তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে। ফ্লাইটটি ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
ঘটনার সময় বিমানটি সৌদি আরবের আকাশসীমায় ছিল। সহপাইলট প্রধান পাইলটকে হামলা করার পর বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। প্রায় দুই মিনিটে বিমানটি কয়েক হাজার মিটার উচ্চতা হারায়। পরে প্রধান পাইলট ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা সহপাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিমানটি পরে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই ইসরায়েলি নাগরিক। ঘটনায় দুই পাইলটই আহত হন এবং সহপাইলটকে আটক করা হয়।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-হামামি এর আগে ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে ‘উগ্রপন্থি’ মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফ্লাইট প্রশিক্ষণ থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্র। পরে তিনি রয়্যাল এয়ার মরক্কোতেও কাজ করেন।
তার নামে থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু অ্যাকাউন্টে বিতর্কিত ও উগ্রপন্থি ব্যক্তিত্বদের ছবি এবং বিভিন্ন পোস্ট পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, হামাম আল-হামামির পেশাগত পরিচয় নিয়েও তথ্য পাওয়া গেছে। তার নামে থাকা লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ওমান এয়ারে কয়েক বছর কাজ করেছেন এবং পরে রয়্যাল এয়ার মরক্কোতে যোগ দেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে বিমান ব্যবস্থাপনায় পড়াশোনা শেষ করেন বলেও ওই প্রোফাইলে উল্লেখ ছিল।
ঘটনার পর বিমানটির পাইলট নিয়োগ ও নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা সংস্থা, সামরিক বাহিনী ও পরিবহন মন্ত্রণালয় ঘটনাটি তদন্ত করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষও তদন্ত শুরু করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সহপাইলট প্রধান পাইলটকে হামলার পর বিমানটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনার উদ্দেশ্য বা সহপাইলটের প্রেরণা সম্পর্কে তদন্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফ্লাইদুবাইও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available