আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। এখনও নিহত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
১৯ আগস্ট বুধবার দুপুর পর্যন্ত নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার চারজন রয়েছেন। তারা হলেন—শর্ণশিষ দত্ত, আফসানা শিম্মিন, দেবাশিস দত্ত ও মো. আকরাম আলী। এছাড়া ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু নামে একজন নিহত হয়েছেন। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শর্ণশিষ দত্তের জন্ম ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর। তার বাবার নাম দেবাশিস দত্ত। তাদের ঠিকানা কুষ্টিয়ার আরুয়াপাড়া এলাকার ১৯/১, বাহাদুর আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া মডেল, মোহিনী মিল এলাকায়।
আফসানা শিম্মিনের জন্ম ১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি। তার বাবার নাম মো. আকরাম আলী। তার ঠিকানাও কুষ্টিয়ার আরুয়াপাড়ার ১৯/১, বাহাদুর আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া মডেল, মোহিনী মিল এলাকায়।
দেবাশিস দত্তের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। তার বাবার নাম দিলীপ কুমার দত্ত। তার ঠিকানাও কুষ্টিয়ার আরুয়াপাড়া এলাকার ১৯/১, বাহাদুর আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া মডেল, মোহিনী মিল এলাকায়।
মো. আকরাম আলীর জন্ম ১৯৬২ সালের ১৬ জুন। তার বাবার নাম ইয়াসিন আলী। তার ঠিকানা কুষ্টিয়ার থানাপাড়ার ৪, মনহুম বদরুদ্দোজা রোড, কুষ্টিয়া মডেল, কুষ্টিয়া হেড পোস্ট অফিস এলাকায়।
নিহত আহমেদ বাবুর জন্ম ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। তার বাবার নাম আদম আলী। তার ঠিকানা ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়ি এলাকায়।
ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানের বয়স ১৯ বছর। তার বাবার নাম প্রয়াত পাসওয়ান ভুবনেশ্বর। তার ঠিকানা গিরিডি জেলার পিলমউ গ্রাম, পোস্ট খারিওডিহ, থানা হেরোডিহ এলাকায়।
এদিকে কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী—পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য পূর্ণিমা চক্রবর্তী।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, বেআইনি কার্যকলাপ ও সুরক্ষাবিধি অমান্যের ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না।
তাপস রায় বলেন, “এ ধরনের মর্মান্তিক বা বিপজ্জনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই সব ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট—আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলব।”
তিনি আরও বলেন, কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় শত শত ও হাজার হাজার বাড়ি এবং গেস্ট হাউস চলছে। সেগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমতি, লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। নিয়ম অমান্য করে বেআইনিভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কলকাতা পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাপস রায় বলেন, পৌরসভা বা মেয়রের কোনো ভুল কিংবা গাফিলতি থাকলে সেটিও চাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। যার বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তীও পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। তারা দ্রুত উদ্ধারকাজ, ত্রাণ এবং তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
বুধবার ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হোটেলের ভেতরে থাকা অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ সময়ের অভিযানে প্রায় ৮০ জনকে হোটেল থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তবে নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনো তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো কাজ করছে। একই সঙ্গে হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: নিউজ ২৪
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available