দেশে পৌঁছাল সৌদিতে আগুনে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ
ডেস্ক রিপোর্ট: সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-৪৩০’ ফ্লাইটে করে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। কফিনগুলো পৌঁছানোর পরপরই বিমানবন্দরে কান্না ও করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়।নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনেরা নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে স্বজনদের মরদেহ নিয়ে রওনা দিয়েছেন।দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে শ্বাসরুদ্ধ ও দগ্ধ হয়ে ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। মরদেহগুলো চেনার উপায় না থাকায় পরবর্তীতে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রথম দফায় এই ৯ জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হলো।শনাক্ত হওয়া ৯ জনের মধ্যে সাতজনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার। এ ছাড়া বাকি দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিন।পরিবারের অভাব ঘোচানোর আশায় প্রবাসে যাওয়া এসব তরুণ ও উপার্জনক্ষম মানুষের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাদের গ্রামগুলোতে এবং স্বজনদের মাঝে শোকের মাতম চলছে। স্বজন হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো এখন কেবল শেষবারের মতো প্রিয় মুখটি দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছে।