আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে সামরিক জান্তা সরকারের বিমান হামলায় এক নবজাতকসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে একটি প্রসূতি ক্লিনিক ও একটি বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনা। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী, ত্রাণকর্মী ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে।
রাখাইন রাজ্যে রোববার চারটি শহরে বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। স্থানীয় ত্রাণকর্মী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সূত্র জানায়, ম্রাউক-ইউ শহরের একটি অস্থায়ী ক্লিনিক ও প্রসূতি ওয়ার্ডে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে এক সপ্তাহ বয়সী এক নবজাতক কন্যাশিশু। যমজ বোনের সঙ্গে পরদিনই তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। হামলায় ক্লিনিকটির ভবন ধসে পড়লে শিশুটির মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে চারজন স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।
এ ছাড়া কিয়াকতাও অঞ্চলের একটি সেতু এবং কিয়াকপিউ ও পাউকতাও এলাকায় বোমা ও গোলাবর্ষণ করা হয়।
রাখাইনে হামলার আগের দিন থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী কায়াহ রাজ্যের লইকাও অঞ্চলের একটি বিদ্যালয়ে বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। কারেনি হিউম্যান রাইটস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, পাঠদান চলার সময় একটি ওয়াই-১২ পরিবহন বিমান ও একটি যুদ্ধবিমান থেকে বিদ্যালয়টিতে ২০টির বেশি বোমা ফেলা হয়। এতে তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়।
কারেনি ইন্টেরিম এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল জানিয়েছে, হামলার সময় ওই এলাকায় কোনো সামরিক তৎপরতা বা সংঘর্ষ ছিল না। শিশুদের বিদ্যালয়ে এ ধরনের হামলাকে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে সংগঠনটি।
এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা ছড়িয়ে পড়ায় থাইল্যান্ডেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের বিমান হামলায় থাই ভূখণ্ডের কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত এবং দেশটির অন্তত একজন নাগরিক আহত হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্তে টহল জোরদার করেছে থাই বিমানবাহিনী।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল মিয়ানমারের জান্তা সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সামরিক অভিযান যেন থাইল্যান্ডের ভূখণ্ডে প্রভাব না ফেলে।
২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এরপর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ও সংঘাত চলছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সংঘাতে এ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
চীন, ভারত ও রাশিয়ার মতো দেশের সমর্থন পেয়ে আসা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে স্থলভাগে বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে জান্তা বাহিনী বিমান হামলা জোরদার করেছে। এতে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available