আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সামরিক হামলা কিংবা নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের সমাধান সম্ভব নয় বলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র পথ হলো ন্যায্য ও কার্যকর আলোচনা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ফের সামরিক পথ বেছে নিলে ইরানও আগের চেয়ে আরও শক্ত জবাব দেবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। সামরিক চাপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি। ইরান এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ওই অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিনিময়ে ইরান কয়েকটি শর্ত তুলে ধরে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি রয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করলেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরব ও কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেছেন, সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক পথেই সংকটের সমাধান খুঁজতে হবে। তার ভাষ্য, ন্যায্য আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে সামরিক হামলা হলে আত্মরক্ষায় ইরান আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available