আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে নদীর তীর এবং নিম্নাঞ্চলগুলোতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে উদ্ধারকারী দল।
২৬ আগস্ট বুধবার সকালে উত্তর নেপালের রাসুয়া ও আশপাশের জেলাগুলোতে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রবল স্রোতের সঙ্গে পানি ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে নদীর তীরবর্তী বহু জনপদে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যায় ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে। তবে বিভিন্ন জেলার হতাহত ও নিখোঁজের তথ্য সমন্বয়ের কাজ চলায় দুর্যোগের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
নিখোঁজদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ট্রেকার রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ১২৭ জন নেপালের নাগরিক।
বন্যার সময় রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকায় অবস্থান করছিলেন কিংবা ওই এলাকাগুলো দিয়ে যাতায়াত করছিলেন—এমন পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে ট্যুরিজম বোর্ড।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দুর্গত এলাকা থেকে ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ভারতীয়, চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন বুলগেরীয় ও একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া আরও ১৮ জনের জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করছে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, পর্যটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এ কাজে ট্রাভেল এজেন্সি, ট্রেকিং প্রতিষ্ঠান, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলপথে নদীর তীর এবং নিম্নপ্রবাহের জনপদগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বন্যায় ওই অঞ্চলের সড়ক, সেতুসহ যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
হঠাৎ করে এত ভয়াবহ বন্যার সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে বুধবার খুব অল্প সময়ের সতর্কতার মধ্যেই পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। দ্রুত সেই স্রোত ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available