আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সুদানে চলমান যুদ্ধ থেকে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অন্তত ৩৭ সুদানি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও পুরো পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে এল-ফাশার রেজিস্ট্যান্স কোঅর্ডিনেশন নামের একটি সুদানি ত্রাণ কমিটি।
২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে কমিটিটি এ তথ্য জানায়। পরে আনাদোলু এজেন্সি এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
কমিটির প্রকাশ করা ৩৭ নিহতের তালিকায় ৭ মাস বয়সী এক শিশুসহ ৩, ৬, ৮, ৯, ১২, ১৩ ও ১৬ বছর বয়সী কয়েকজন শিশুর নাম রয়েছে। নিহতরা সুদানের এল-ফাশার, এল-জেনেইনা, নিয়ালা, গেদারেফ, ইস্ট নাইল, বাবানুসাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এল-ফাশার রেজিস্ট্যান্স কোঅর্ডিনেশন বলেছে, নিহতদের মধ্যে এল-ফাশার শহরের বাসিন্দার সংখ্যা বেশি। যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির পর নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তারা প্রথমে দেশের ভেতরে এবং পরে আন্তর্জাতিক অভিবাসনপথে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
কমিটিটি বলেছে, সুদানের এল-ফাশারের মানুষের দুর্ভোগ কোনো জায়গাতেই শেষ হয়নি—নিজ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার পথ, অভিবাসনের যাত্রা এবং শেষ পর্যন্ত সমুদ্রেও তাদের মৃত্যু তাড়া করেছে।
সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত চলছে। এই সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে আরএসএফ এল-ফাশার দখলের পর শহরটিতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সুদান থেকে বহু মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলো হয়ে উত্তর আফ্রিকা এবং সেখান থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের একটি বড় অংশ লিবিয়া থেকে যাত্রা করছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available