আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আঙ্কারাকে ‘স্পষ্ট বার্তা’ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে তুরস্কের কোনো সামরিক উপস্থিতি ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
১৯ আগস্ট বুধবার স্থানীয় সময় এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্ক সিরিয়ার দক্ষিণ দিকে কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করলে সেটিকে ইসরায়েলের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি তুরস্ককে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল জানতে পেরেছে, তুরস্ক আলেপ্পোর কাছে নিজেদের বর্তমান অবস্থানের দক্ষিণে একটি বিমানঘাঁটিতে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। এ তথ্য পাওয়ার পরই আঙ্কারাকে সতর্ক করা হয়।
তুরস্ক ওই বার্তা পেয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, বার্তাটি তুরস্কের কাছে পৌঁছেছিল। তবে তাঁর দাবি, আঙ্কারা বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে পারেনি। এ কারণে ইসরায়েলের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পর সিরিয়ার পূর্ব ইদলিব প্রদেশের আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আলেপ্পোর কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে তুরস্ক ইসরায়েলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ অধিদপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তুরস্কের দাবি, সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের হামলাকে বৈধতা দিতেই এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিরিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক সিরীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে তুরস্ক নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘সম্প্রসারণবাদী ও অস্থিতিশীলতামূলক নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ করেছে।
এদিকে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত বিশেষ প্রতিনিধি ব্যারি পিচ আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের হামলা সিরিয়ায় আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তিনি সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে এবং আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানান।
হামলার পর সিরিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে জর্ডানও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ফোনালাপে জর্ডান ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানায় এবং সিরিয়ার প্রতি সংহতি ও সমর্থনের কথা জানায়।
হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘও। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক ইসরায়েলের হামলাকে সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও আকাশসীমার ‘আরেকটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি এ ধরনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।
সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রেসিডেন্ট দূত টম ব্যারাকও হামলাটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার সুযোগকে আরও কঠিন করে তোলে।
আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে মোট চার দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর ওই সামরিক স্থাপনায় এটিই ইসরায়েলের প্রথম হামলা বলে জানা গেছে।
সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং দেশটিতে সম্ভাব্য তুর্কি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ইসরায়েল-তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। ফলে এ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available