আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের সাম্প্রতিক স্কুল পাঠ্যক্রমে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও ইহুদি-খ্রিস্টানদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের কিছু বিষয় বাদ বা সংশোধন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-সে।
সংস্থাটির ২৯ জুলাই প্রকাশিত সৌদি আরবের ২০২৪-২৬ সালের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির পাঠ্যবইয়ে শান্তি, সহাবস্থান, সহনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সহিংসতা ও উগ্রবাদকে উৎসাহিত করে—এমন কিছু বিষয়ও বাদ বা পরিবর্তন করা হয়েছে।
ইমপ্যাক্ট-সের আগের পর্যালোচনাগুলোতেও সৌদি পাঠ্যবইয়ে ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে নেতিবাচক উপস্থাপনা কমে আসার কথা বলা হয়েছিল। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানায়, ইসরাইল ও ইহুদিদের নিয়ে আগের কিছু নেতিবাচক বক্তব্যও সরিয়ে দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয়েছে।
সৌদি পাঠ্যক্রমে জেরুজালেম ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত কিছু বক্তব্য পরিবর্তনের বিষয়টিও ইমপ্যাক্ট-সের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। আগের সংস্করণে থাকা ইহুদি ও ইসরাইল সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক বা সংঘাতমুখী বক্তব্য পরবর্তী সংস্করণে আর রাখা হয়নি বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এ ছাড়া কোরআন ও হাদিসের কিছু শিক্ষণীয় উদাহরণ পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার বিষয়ও আগের পর্যালোচনাগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এসব পরিবর্তন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি সহনশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতার দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
ইমপ্যাক্ট-সে আরও বলেছে, সৌদি পাঠ্যক্রমে উগ্রবাদ, সহিংস জিহাদ ও শহীদত্বের প্রচারসংক্রান্ত আগের অনেক বিষয় ইতোমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে বা সংশোধন করা হয়েছে। ২০২১-২২ সালের পর্যালোচনায় সংস্থাটি জানিয়েছিল, ইহুদি, খ্রিস্টান ও অমুসলিমদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা তৈরি করতে পারে—এমন ২৮টি পাঠ বাদ বা ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল।
তবে সংস্কারের পাশাপাশি সৌদি পাঠ্যক্রমে কিছু বিতর্কিত বিষয় এখনো রয়েছে বলেও জানিয়েছে ইমপ্যাক্ট-সে। ২০২৩-২৪ সালের পর্যালোচনায় সংস্থাটি উল্লেখ করে, ইসরায়েলকে এখনো সৌদি পাঠ্যবইয়ের মানচিত্রে রাষ্ট্র হিসেবে দেখানো হয় না এবং কিছু বইয়ে ‘ইসরায়েলি দখলদার’ বা ‘ইসরায়েলি দখলদারিত্ব’ ধরনের শব্দ ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি সরকারের পাঠ্যক্রম সংস্কার নিয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছে। ২০২৩ সালের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি সরকার দীর্ঘদিন ধরে অন্য ধর্মের প্রতি অবমাননাকর বিষয় পাঠ্যবই থেকে সরানোর উদ্যোগ চালিয়ে আসছে।
তবে ইমপ্যাক্ট-সে একটি ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা সংস্থা হওয়ায় তাদের মূল্যায়নকে সংস্থাটির নিজস্ব গবেষণা ও দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা উচিত। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট পর্যালোচনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য নিউ আরব
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available