আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চালু করা নতুন অর্থপ্রদানের সেবা ‘ট্রুথ এপিআই’ নিয়ে ট্রাম্প ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
১২ আগস্ট বুধবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মামলাটি করেন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট ও অলাভজনক সংগঠন ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন। মামলায় অর্থের বিনিময়ে ট্রাম্পসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এমন পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে দেখার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক দাবি করে তা বন্ধের আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগ, ট্রাম্পের পোস্টগুলোর মধ্যে কিছু পোস্টে সরকারি নীতি, সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য থাকে, যা প্রকাশের পর আর্থিক বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অর্থের বিনিময়ে এসব পোস্ট সাধারণ মানুষের আগে পাওয়ার সুযোগ থাকলে ধনী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আর্থিক সুবিধা নিতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ‘ট্রুথ এপিআই’ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা ট্রাম্পসহ নির্দিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এ সেবার জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত নেওয়া হতে পারে।
বাদীপক্ষের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘোষণা দেন। এসব তথ্য অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে আগে পৌঁছে দেওয়া হলে জনগণের সমানভাবে সরকারি তথ্য পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ব্যবস্থাকে তারা অন্যায্য ও অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছে।
আর্থিক বাজারে তথ্য পাওয়ার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রেসিডেন্টের নীতি ঘোষণা বা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে এসব তথ্য পাওয়ার সুযোগ পেলে অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকেরা অন্যদের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই মামলাটি করা হয়েছে।
মামলাকারীরা শুধু আগাম পোস্ট পাওয়ার বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি। সরকারি তথ্য একমাত্র একটি বেসরকারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রকাশ এবং সেই তথ্যের দ্রুততর সংস্করণ অর্থের বিনিময়ে সরবরাহের বিষয়টিও তারা চ্যালেঞ্জ করেছেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতে দ্রুত তথ্য সরবরাহের এ ধরনের ব্যবস্থা নতুন কিছু নয়।
এখন আদালতকে নির্ধারণ করতে হবে, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের সরকারি যোগাযোগ সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশের আগে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা মার্কিন আইন ও সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available