স্পোর্টস ডেস্ক: বাবার মৃত্যুর শোক নিয়েই মাঠে ফিরেছিলেন লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টাইন মহাতারকার সেই আবেগঘন প্রত্যাবর্তনও ইন্টার মায়ামিকে রক্ষা করতে পারেনি। লিগস কাপের ম্যাচডে ৩-এ ক্লাব লিওনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মায়ামি। ঘরের মাঠে জয়ের লক্ষ্যে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও দ্বিতীয়ার্ধে লিওনের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে মেসিদের।
টুর্নামেন্টের পরের ধাপে যেতে হলে ম্যাচডে ৩-এ মায়ামির জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। শুধু নিজেদের ম্যাচে জয়ই যথেষ্ট ছিল না, পাশাপাশি এমএলএসের অন্য ম্যাচগুলোর ফলও তাদের পক্ষে আসার প্রয়োজন ছিল। ফলে শুরু থেকেই ম্যাচটি মায়ামির জন্য হয়ে উঠেছিল বাঁচা-মরার লড়াই।
এর আগে মায়ামি অ্যাথলেটিকো সান লুইসকে ৪-২ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট পেয়েছিল। তবে পরের ম্যাচে মন্টেরের কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের হিসাব অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়। শেষ ম্যাচে লিওনের বিপক্ষে জয় নিয়ে পরের ধাপে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যেই মাঠে নামে হেরনরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে মায়ামি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ৪২ মিনিটে ১৯ বছর বয়সী ড্যানিয়েল পিন্টার গোল করে মায়ামিকে এগিয়ে দেন। গোলটি স্বাগতিকদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং বিরতির আগে তারা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫০ মিনিটে ড্যানিয়েল আরসিলা গোল করে লিওনকে সমতায় ফেরান। সমতা ফেরার আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি সফরকারী দলের। মাত্র তিন মিনিট পর ইয়ানিক ব্রাইট গোল করে আবারও মায়ামিকে এগিয়ে দেন।
২-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও লিওন ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি। বরং ধীরে ধীরে তারা মায়ামির ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। ৬১ মিনিটে হুয়ান ডমিনগেজের গোলে আবারও সমতায় ফেরে ম্যাচ। তখন দু’দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
ম্যাচের শেষ ভাগে এসে নাটক আরও জমে ওঠে। ৮৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আরসিলা। তার সেই গোলেই প্রথমবারের মতো ম্যাচে এগিয়ে যায় লিওন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকান দলটি।
মায়ামির জন্য ম্যাচটির আরেকটি বড় ঘটনা ছিল মেসির মাঠে ফেরাটা। স্বল্প সময়ের বিরতির পর আর্জেন্টাইন তারকাকে শুরুতে একাদশে না রেখে বদলি হিসেবে রাখা হয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পিন্টারের জায়গায় মাঠে নামানো হয় তাকে।
মেসি মাঠে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে তৈরি হয় অন্য রকম আবহ। নু স্টেডিয়ামের দর্শকেরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। দীর্ঘ বিরতির পর মেসির প্রত্যাবর্তন মায়ামির সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার উপস্থিতিও দলের ভাগ্য বদলাতে পারেনি।
মেসি মাঠে নামার পর মায়ামি আক্রমণে আরও প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করলেও লিওনের রক্ষণভাগ ও পাল্টা আক্রমণের সামনে কাঙ্ক্ষিত গোলটি আর পায়নি। উল্টো শেষদিকে আরসিলার গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় মায়ামির বিদায়।
ফলে লিগস কাপের এবারের অভিযানে মায়ামির পথচলা থেমে গেল ম্যাচডে ৩-তেই। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাচে ঘরের মাঠে ৩-২ গোলে হেরে যাওয়ার পাশাপাশি মেসির প্রত্যাবর্তনের রাতটিও শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকল হতাশার। আর লিওন গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে নিজেদের পরের পর্বের আশা আরও শক্তিশালী করল।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available