আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকে থাকতে পারেন— এমন আশঙ্কায় মঙ্গলবারও পশ্চিমাঞ্চলে রাতদিন উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। স্বজনদের জীবিত উদ্ধারের আশায় ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
১১ আগস্ট মঙ্গলবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল পর্যন্ত ভূমিকম্পে অন্তত ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পেরেইরা শহরেই নিহত হয়েছেন ১০১ জন। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর ক্যালিতে প্রাণ গেছে ৯৫ জনের।
স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি কয়েক দশকের মধ্যে কলম্বিয়ায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। এতে দেশটির কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু আবাসিক ভবন, বাড়ি, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ফাটল ধরে হেলে পড়েছে, আবার কোনো কোনো স্থাপনা পুরোপুরি ধসে গেছে।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ১০০টি পরাঘাত বা আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে রাতভর ক্রেন, খননযন্ত্র এবং কখনো খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালান কর্মীরা। বাঁকানো লোহার রড ও কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন তারা।
এদিকে, ধ্বংসস্তূপে বাড়ছে স্বজনদের অপেক্ষা। ক্যালি ও পেরেইরার বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। কোথাও ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে, কোথাও পুরো আবাসিক এলাকা পরিণত হয়েছে কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপে।
উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকরাও করছেন সহযোগিতা। কেউ মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছেন, আবার কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কোনো শব্দ বা কান্নার আওয়াজ শোনার আশায় নীরবে অপেক্ষা করছেন।
অন্যদিকে, ভূমিকম্পের ফলে হাসপাতাল ও যোগাযোগব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। ক্যালিতে একটি হাসপাতালের ওপরের কয়েকটি তলা ধসে পড়েছে। এর মধ্যে শিশুদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অংশও ছিল। হাসপাতালটির পরিচালক ইরনে তোরেস কাস্ত্রো জানান, কিছু রোগী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকা পড়েন। প্রায় ৬০০ রোগীকে ধ্বংসাবশেষে ভরা সড়কে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। এছাড়া শহরটির মর্গও মরদেহে পূর্ণ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্যালির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কর্মকর্তা জার্মান এসকোবার।
আবার ভূমিকম্পের কারণে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কলম্বিয়ার ছয়টি বিমানবন্দর। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে কুইবদো, পেরেইরা, মানিজালেস, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরা। এছাড়া বেশ কিছু সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ও টেলিফোন যোগাযোগ এখনো কয়েকটি এলাকায় বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছাকাছি চোকো অঞ্চলে এই সংকট বেশি। ফলে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়েছে বহু ভবন এবং শত শত আবাসিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।
এদিকে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি আশ্রয়, খাবার, সুরক্ষা ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে ১৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া পুনর্গঠন সহায়তার জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রেখেছে ইন্টার-আমেরিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। তবে কলম্বিয়া সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতেই এই অর্থ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, অনেক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনো যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় ভূমিকম্পের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও চূড়ান্ত প্রাণহানির সংখ্যা নির্ধারণে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available