আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় আহত হয়েছেন প্রায় ৫০০ মার্কিন সেনাসদস্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর এটি মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার ধারাবাহিকতার অংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান তার সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি। বরং দেশটি দীর্ঘমেয়াদি অসম যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্ভুলতাও আগের তুলনায় বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ-এর সামরিক বিশ্লেষক জেনিফার কাভানা বলেন, ইরান প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করেছে। তার মতে, হামলার কার্যকারিতা বৃদ্ধির পেছনে রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা সহায়তা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা এমন সব ঘাঁটিতে রয়েছেন, যেগুলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে। অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হলেও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে অল্পসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেই উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেটে দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করা হয়েছে। তবে একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইরানের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ওয়াশিংটন অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ইরানের তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, এপি, রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available