অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। টানা ১১তম রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরান-সমর্থিত হুথিদের সতর্কবার্তার পর লোহিত সাগরে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজের গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২২ জুলাই বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮২ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ১৬ ডলারে।
এর আগে মঙ্গলবার পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে তেলের বাজার। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-সম্পৃক্ত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতের শেষভাগে তারা নতুন করে ইরানে হামলা শুরু করে, যা স্থানীয় সময় বুধবার ভোরে পরিচালিত হয়। হামলার কিছুক্ষণ আগে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি তেল বহনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানিয়েছে।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথে অবস্থিত বাব এল-মান্দেব সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠেছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
মঙ্গলবার চীন ও ভারতের উদ্দেশে সৌদি অপরিশোধিত তেল বহনকারী তিনটি ট্যাংকার হুথিদের সতর্কবার্তার পর লোহিত সাগরে দিক পরিবর্তন করে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে তারা সুয়েজ খালের দিকে ফিরে যায়।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএনজির পণ্য কৌশলবিদরা বলেছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এশিয়াগামী জাহাজগুলোকে সুয়েজ খাল ব্যবহার করে যাতায়াত করতে হবে, যা সময় ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের উত্তেজনাও সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
এদিকে কাজাখস্তানের তেল পরিবহনের প্রধান রুট ক্যাসপিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম সোমবার থেকে তেল লোডিং স্থগিত রাখার পর দেশটি থেকে তেল গ্রহণ বন্ধ করেছে। কৃষ্ণসাগরে তাদের টার্মিনালে তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাশিয়া এ হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করলেও কিয়েভ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
আইএনজি জানিয়েছে, স্থগিতাদেশ দীর্ঘায়িত হলে কাজাখস্তানকে তেল উৎপাদনও কমিয়ে আনতে হতে পারে।
অন্যদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেট মজুত বেড়েছে, যদিও পেট্রোলের মজুত কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) আনুষ্ঠানিক মজুতের তথ্য প্রকাশ করবে।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available