আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
২৭ জুন শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির এক টেলিগ্রাম বার্তায় এ দাবি করা হয়।
বার্তায় আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক ও কঠোর হবে।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই জাহাজে হামলার জন্য তেহরান দায়ী।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলা এবং এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই আশাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংঘাত তীব্র হলে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এভার লাভলি-তে হামলাকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন।
ওই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান এবং তেহরানের পাল্টা হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতাটি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরির জন্য একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
সূত্র: এএফপি
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available