আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন হামলার হুমকির জবাবে সরাসরি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালালে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এক প্রতিবেদনে এমনটিই তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা সিএনএন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, শনিবার রাতে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে (সোমবারের মধ্যে) যদি হরমুজ প্রণালী জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত না করা হয়, তবে মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়েই এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করব।’


ট্রাম্পের বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বিবৃতি দেয় ইরানের সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া। সেখানে বলা হয়েছে, যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে একটি বোমাও পড়ে, তবে হরমুজ প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সম্পূর্ণ’ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ধ্বংস হওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত এই পথ আর খুলবে না।

এদিকে ইরান কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নয়, বরং ইসরায়েলের জ্বালানি, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামোতে হামলার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া যেসব প্রতিবেশী দেশ মার্কিন ঘাঁটিকে জায়গা দিচ্ছে, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্পগুলোকেও ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং জাপানসহ ২০টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইরান এই আহ্বান নাকচ করে দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available