আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকার আশায় বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় দিনের মতো কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। তবে দাম এখনও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার গ্রিনিচ সময় রাত ৩টা ১৯ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়ায়। বৃহস্পতিবার উভয় ধরনের তেলের দামও প্রায় ১ শতাংশ কমেছিল।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা হলেও তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটার সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। সৌদি আরব বিকল্প পথে এশিয়ার বাজারে তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগও কিছুটা কমেছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সৌদি আরবের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কায় তেলের দাম প্রায় চার মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ স্থগিত এবং ইউরোপে কিছু চালান বাতিলের খবরেও বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনায় তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও মেরামতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে বিভিন্ন হিসাব পাওয়া যাচ্ছে।
তবে সৌদি আরব দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের প্রায় অর্ধেক সক্ষমতা পুনরায় চালুর চেষ্টা করছে রিয়াদ। পাশাপাশি ওমানের সোহর বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাজারে সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে গত ১০ দিনে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১৬টি। তবে কিছু জাহাজ নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিচয় শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ রাখায় প্রকৃত সংখ্যা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও তেল সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাজারে ঝুঁকি বাড়িয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে শান্তি আলোচনা হয়নি। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আলোচনায় আসতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available