আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। এ অবস্থায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে এবং এর ফল হবে কেবল অস্থিতিশীলতা।

স্থানীয় সময় ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, মার্কিন হুমকিগুলো অঞ্চলের নিরাপত্তা নষ্ট করার লক্ষ্যেই দেওয়া হচ্ছে এবং এগুলো অস্থিতিশীলতা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না। খবর আল জাজিরার।


ইরানি প্রেসিডেন্টের দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি ইরানের ওপর সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ ও বহিরাগত হস্তক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, এসব চাপ ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও সচেতনতা দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি যুবরাজ এই সংলাপকে স্বাগত জানান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সৌদি যুবরাজ বলেন, ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সংহতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন বা উত্তেজনা বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন।
সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, যুবরাজ স্পষ্ট করে বলেছেন—রিয়াদ কখনোই তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় ব্যবহার করতে দেবে না।
তিনি আরও বলেন, সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর উদ্যোগই পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।
এদিকে সৌদি আরবের এই অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট যুবরাজের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের একটি বিমানবাহী রণতরী এই অঞ্চলে পাঠিয়েছেন।
আইওয়ায় এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আরেকটি বড় নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর মধ্যেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলো বন্ধু হলেও তাদের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার হলে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের হামলা চালায়, যেখানে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা লক্ষ্যবস্তু হন। পরে যুক্তরাষ্ট্র তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এই ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পরমাণু আলোচনা শুরুর ঠিক আগে।
এরপর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানকে অবশ্যই পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে। তবে এখনো নতুন করে আলোচনা শুরু হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই অঞ্চলের কোনো নিরাপত্তা সংকট পুরো অঞ্চলকেই প্রভাবিত করবে। অস্থিরতা ছোঁয়াচে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available