আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে মার্কিন হামলা নিয়ে জাতিসংঘের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের একটি তথ্য অনুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে চালানো দুটি মার্কিন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—এমন ‘যুক্তিসংগত কারণ’ রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধীন স্বাধীন তথ্য অনুসন্ধানী মিশন ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে চালানো দুটি মার্কিন হামলায় অন্তত ১৭৮ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। হামলা দুটির একটি ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে অন্তত ১২০ জন শিশু ছিলেন। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মনে করেন, স্কুলটি হামলার অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির শিকার হয়নি; বরং হামলার লক্ষ্যবস্তুর অংশ ছিল। এ কারণে হামলাটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জাতিসংঘের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, সংস্থাটি মানবাধিকার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
স্কুলে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো দায় স্বীকার করেনি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ দমনে দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।
জাতিসংঘের অভিযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের তা প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় ইরান সংঘাতের সময় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available