• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২৯শে আশ্বিন ১৪৩৩ সকাল ১১:১৫:৫৩ (14-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে সাবমেরিন ক্যাবল ও ডেটা সেন্টার ধ্বংসের হুঁশিয়ারি তেহরানের

১৪ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ০৯:২১:১৬

যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে সাবমেরিন ক্যাবল ও ডেটা সেন্টার ধ্বংসের হুঁশিয়ারি তেহরানের
সাবমেরিন ক্যাবল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে সাবমেরিন ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির অবকাঠামো। এমন হামলা হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে ইন্টারনেট যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই বলেছেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো রয়েছে। এখন পর্যন্ত এসব স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হলে এসব অবকাঠামোর বড় একটি অংশ ধ্বংস করা হতে পারে।

সাবমেরিন ক্যাবল হলো সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত ফাইবার অপটিক যোগাযোগব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বের অধিকাংশ আন্তমহাদেশীয় ইন্টারনেট তথ্য আদান-প্রদান হয়। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরসংলগ্ন সমুদ্রপথ এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের ডিজিটাল যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক তথ্য আদান-প্রদানে বিলম্ব, ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিকল্প যোগাযোগপথ থাকলেও একাধিক ক্যাবল একসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ইয়েমেনের বাব আল-মানদেব প্রণালিসংলগ্ন এলাকায় হুথি বিদ্রোহীদের প্রভাবও এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লোহিত সাগরের এই সামুদ্রিক পথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া ক্যাবলগুলোর মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির হিসাব উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, দুই মহাদেশের মধ্যে তথ্য পরিবহন সক্ষমতার ৯০ শতাংশের বেশি এই পথের ক্যাবলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তবে বিকল্প যোগাযোগপথ থাকায় ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেই পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা অচল হয়ে যাবে, এমন নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের সময় বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত কয়েকটি ডেটা সেন্টার হামলার শিকার হয়েছিল। এসব স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির কারণে ওই অঞ্চলের প্রযুক্তিগত সেবা ও ক্লাউডভিত্তিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ডেটা সেন্টার, সাবমেরিন ক্যাবল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন, ক্লাউড সেবা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের এই হুঁশিয়ারি শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক চাপ দেওয়ার বিষয় নয়; উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত স্বার্থের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। 

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ



চালককে গলা কেটে হত্যা করে অটো ছিনতাই
চালককে গলা কেটে হত্যা করে অটো ছিনতাই
১৪ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০:২৭:৪৩