অনলাইন ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় তদন্ত ও সংশ্লিষ্টতার বিষয় পর্যালোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন- গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এছাড়া বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন- অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নুর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সিন্ডিকেটের সভায় স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। সেখানে আলোচনার পর বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে, আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গত ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটকের সামনে পুলিশের গুলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
আবু সাঈদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রংপুরের আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। পরে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তৎকালীন সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে।
আবু সাঈদ হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সিন্ডিকেটের সভায় তিন শিক্ষকসহ ১১ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আবু সাঈদ নিহতের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক একটি অধ্যায়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থায়ী বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর করা হবে।
সূত্র: বাসস
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available